আল কোরআনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা এই ৪টি গুণ যার মধ্যে থাকবে সে কখনো ক্ষতিগ্রস্থ হবে না । – News Desk BD
 

আল কোরআনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা এই ৪টি গুণ যার মধ্যে থাকবে সে কখনো ক্ষতিগ্রস্থ হবে না ।

একজন খাঁটি মুসলিম শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে না। নিজের সুখে সন্তুষ্ট থাকে না। যেমন সে নিজের দুঃখেই শুধু ব্যথিত হয় না। অন্যের কথা চিন্তা করতে হয় তাকে। অন্যের কল্যাণে কাজ করতে হয়। অন্যের দুঃখে দুঃখী ও অন্যের সুখে সুখী হওয়া তার কর্তব্য।

এজন্য এ চারটি গুণের প্রথম দুটো গুণ নিজের কল্যাণের জন্য আর পরের গুণ দুটো হল অন্যের কল্যাণের জন্য। প্রথম গুণ দুটো দ্বারা একজন মুসলিম নিজেকে পরিপূর্ণ করে, আর অপর দুইগুণ দ্বারা অন্যকে পরিপূর্ণ করার প্রয়াস পায়। মূলত নিচে আলোচিত চারটি গুণ যে ব্যক্তির মধ্যে থাকবে সে কখনো ক্ষতিগ্রস্থ হবে না।

১। ঈমান
প্রথম গুণটি হল ঈমান। এটা একটা ব্যাপকভিত্তিক আদর্শের নাম। প্রখ্যাত তাফসিরবিদ মুজাহিদ রহ. বলেছেন, ঈমান হল, আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করা, তাঁর একত্ববাদকে সর্বক্ষেত্রে গ্রহণ করা। তাঁর পক্ষ থেকে যা কিছু এসেছে সবগুলোকে মেনে নেয়া এবং সর্বক্ষেত্রেই তার কাছে জওয়াব দিতে হবে এ আদর্শ ধারণ করা। (তাফসিরে তাবারি)

ঈমানের পর নেক আমল বা সৎকর্মের স্থান। সৎকর্ম কম বেশি সকল মানুষই করে। তবে ঈমান নামক আদর্শ তারা সকলে বহন করে না। ফলে তাদের আমল বা কর্মগুলো দিয়ে লাভবান হওয়ার পরিবর্তে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকে। সৎকর্মশীল মানুষগুলো যদি ঈমান নামের আদর্শকে গ্রহণ করে তাহলে এ সৎকর্ম দ্বারা তারা দুনিয়াতে যেমন লাভবান হবে আখেরাতেও তারা অনন্তকাল ধরে এ লাভ ভোগ করবে। আর যদি সৎকর্মের সঙ্গে ঈমান নামের আদর্শ না থাকে, তাহলে সৎকর্ম দিয়ে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে কিছুটা লাভবান হলেও আখেরাতের স্থায়ী জীবনে এটা তাদের কোনো কল্যাণে আসবে না। এ জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রথমে ঈমানের কথা বলেছেন।

২। সৎকর্ম
সৎকর্ম হল, যা কিছু ইসলাম করতে বলেছে সেগুলো পালন করা আর যা কিছু নিষেধ করেছে সেগুলো থেকে বিরত থাকা। হতে পারে তা ফরজ, ওয়াজেব, সুন্নাত, মুস্তাহাব বা নফল। আর বর্জনীয় বিষয়গুলো বর্জন করে চলা। হতে পারে তা হারাম, মাকরূহ।

যখন মানুষ ঈমান স্থাপন করল, তারপর সৎকর্ম করল, তখন সে নিজেকে পরিপূর্ণ করে নিল। নিজেকে লাভ, সফলতা ও কল্যাণের দিকে পরিচালিত করল। কিন্তু ঈমানদার হিসাবে তার দায়িত্ব কি শেষ হয়ে গেল? সে কি অন্য মানুষ সম্পর্কে বে-খবর থাকবে? কিভাবে সে এত স্বার্থপর হবে? অন্য সকলকে কি সে তার যাপিত কল্যাণকর, সফল জীবনের প্রতি আহবান করবে না? কেনই বা করবে না? সে তো মুসলিম। তাদের আভির্ভাব ঘটানো হয়েছে তো বিশ্ব মানবের কল্যাণের জন্য। আর এ জন্যই তো মুসলিমরা শ্রেষ্ঠ জাতি। আল্লাহ তাআলা তো বলেই দিয়েছেন :

كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ

‘তোমরা হলে সর্বোত্তম জাতি, যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, আর আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।’ (আলে ইমরান : ১১০)

অতএব নিজেকে ঠিক করার পর তার দায়িত্ব হবে অন্যকে কল্যাণের পথে আহবান করা। তাই ঈমান ও সৎকর্ম নামক গুণ দুটো উল্লেখ করার পর আল্লাহ তাআলা আরো দুটো গুণের কথা বললেন :

وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ

‘আর তারা পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।’

৩। সত্যের পথে মানুষকে আহবান
সত্যের দিকে মানুষকে আহবান করা, এ আহবান করতে গিয়ে ও আহবানে সাড়া দিতে গিয়ে যে সকল বিপদ-মুসিবত, অত্যাচার-নির্যাতন আসবে তাতে ধৈর্য ধারনের জন্য একে অন্যকে উপদেশ দেয়া কর্তব্য। প্রশ্ন হতে পারে সত্যের মধ্যেই তো ধৈর্য আছে। ধৈর্য তো হক বা সত্যের একটি। তাহলে এটা আলাদাভাবে উল্লেখ না করলে কি হত না? কোনো বিষয়ের গুরুত্ব বুঝাতে সাধারণভাবে তা উল্লেখ করা হলেও আবার বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

ইসলামিক পরিভাষায় এটাকে বলা হয় : ذكر الخاص بعد العام

৪। অন্যকে ধর্য্যধারণের উপদেশ দেয়া
কোনো বিষয় অর্জন করা সহজ হতে পারে কিন্তু সেটি ধরে রাখা ও তার ওপর অটল থাকা ততটা সহজ নাও হতে পারে। আর এ জন্যই প্রয়োজন ধৈর্য ও সবরের।

যে অপরাধে মানুষ রহমতের ছায়া থেকে বঞ্চিত হয় জেনে নিন
গুম খুন হত্যা এখন নিত্যদিনের সাধারণ খবরে পরিণত হয়েছে। অথচ অন্যায়ভাবে এ কাজগুলো সংঘটিত হলে আল্লাহর আরশ থর থর করে কেঁপে ওঠে। কেননা জীবন হত্যা মানবতা হত্যার শামিল।

ইসলাম গুমকে তো সমর্থন করেই না আর বিনা কারণে খুন বা হত্যাকে হারাম ঘোষণা করেছে। প্রিয়নবি বলেন, ‘এ সব অপরাধকারীর প্রতি আল্লাহ তাআলার রহমতের ছায়া থাকে না।’

কুরআনুল কারিমে খুন বা হত্যার সুস্পষ্ট বিধান জারি করা হয়েছে। মানুষকে যুদ্ধ-বিগ্রহ, ফেতনা ফাসাদ থেকে বিরত রাখার জন্য কেসাসের বিধান দেয়া হয়েছে। যাতে মানুষ মানবতা হত্যার মতো মহা অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘স্বাধীন ব্যক্তি হত্যার বদলায় স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা কর; দাসের বদলায় দাস, নারীর বদলায় নারীকে হত্যা করা।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৭৮)

বর্তমান সময়ে গুম খুন ও হত্যা এক মহামারী আকার ধারণ করেছে। তা দেশ কি বিদেশে। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান যদি এ সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; আমি (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসুল। এ ব্যক্তিকে তিনটি কারণ ব্যতিত হত্যা করা যাবে না।

>> যদি সে অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে;

>> বিবাহিত হয়েও ব্যভিচার করে;

>> ইসলাম পরিত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যায়। (বুখারি ও মুসলিম, মিশকাত)

যদিও উল্লেখিত বিষয়গুলোর ফয়সালা রাষ্ট্রীয়ভাবে দেয়া হয়। কিন্তু কুরআন এবং হাদিসের আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র এ কাজগুলোর সঙ্গে জড়িতদেরকেই ইসলাম হত্যার বিধান জারি করেছে।

অথচ সমাজে এখন গুম, খুন ও হত্যা বিনা অপরাধে অহরহ চলছে। অনেক সময় এমন সব ঘটনা বা অপরাধে হত্যা বা খুন-রাহাজানি করা হয়; যে বিষয়ে ইসলামের কোনো নির্দেশনা নেই।

গুম খুন হত্যা এত মারাত্মক অপরাধ যে, হত্যাকারীর ওপর থেকে আল্লাহ তাআলার রহমতের ছায়া সরে যায়। যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা থেকে বিরত থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি আল্লাহর রহমতের বিশেষ ছায়াতলে থাকে। যখনই সে এ কাজে জড়িত হয়ে যায়; তখনই তার ওপর থেকে আল্লাহর রহমত সংকুচিত হয়ে যায়।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘একজন মুমিন ততক্ষণ পর্যন্ত দ্বীনের ব্যাপারে পূর্ণ প্রশান্ত থাকে যে পর্যন্ত না সে অবৈধ হত্যায় লিপ্ত না হয়। (বুখারি, মিশকাত)

সুতরাং অন্যায় ভাবে কাউকে খুন বা হত্যা নয়; সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মানবতার কল্যাণে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘোষিত দুনিয়াতে আল্লাহর রহমতের বিশেষ ছায়াতলে আশ্রয় লাভে এবং পরকালের সফলতায় মানবতা হত্যার মতো মহা অপরাধমূলক কাজ থেকে মুক্ত থাকা জরুরি।

প্রিয়নবির এ ঘোষণাটি মনে রাখতে হবে-
‘কেয়ামতের দিন মানুষের মাঝে সর্বপ্রথমে যে বিষয়ে ফয়সালা হবে; তাহলো রক্তপাত বা হত্যা।’ (বুখারি-মুসলিম ও মিশকাত)

[Close]

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরকালের জবাবদিহি ও কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক জীবন-যাপন করে মহাসফলতা লাভে গুম, খুন এবং হত্যা থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখার তাওফিক দান করুন।
”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
কবিরাজঃ মিঃ তপন দেব,এখানে আয়ুর্বেদী ঔষধের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের যাবতীয় গোপন রোগ সহ,যে কোন জটিল ও কঠিন রোগের নিচর্য়তা সহকারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এবং দেশে ও বিদেশে ঔষধ পাঠানো হয়। যোগাযোগ==ঢাকা==০১৮২১৮৭০১৭০===
”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””

লাইক দিন ও জনস্বার্থে শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*